রাফি তখন পাঁচ বছরের। একদিন স্কুল থেকে ফিরে মাকে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল—“মা, আজ আমি ক্লাসে একটা ক্যা দেখেছি!”
মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ক্যা মানে?”রাফি ইশারায় বুঝালো, সে আসলে “ক্যাট” বলতে চেয়েছিল।
এমন ভুল উচ্চারণ আমরা প্রায়ই শিশুদের মধ্যে দেখি। ছোটবেলায় এগুলো মিষ্টি লাগে, কিন্তু বয়স বাড়ার পরও যদি একই ভুল থেকে যায়, তখন সেটাই ডিসলালিয়া।
ডিসলালিয়া কী?
ডিসলালিয়া হলো কথা বলার একটি সমস্যা। এখানে শিশু কিছু শব্দ বা ধ্বনি ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। কেউ শব্দ বাদ দিয়ে ফেলে, কেউ অন্য ধ্বনি বসায়, আবার কেউ বিকৃত করে বলে।
কেমনভাবে প্রকাশ পায়?
কেন হয়?
ডিসলালিয়ার পেছনে কয়েকটা বড় কারণ থাকে—
প্রভাব
শিশুরা যখন স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, তখন স্কুলে বন্ধুদের কাছে ঠাট্টার শিকার হয়। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। কিছু শিশু চুপচাপ হয়ে যায়, আবার কেউ কথা বলাই এড়িয়ে চলে।
সমাধান
ডিসলালিয়া সাধারণত নিরাময়যোগ্য। স্পিচ থেরাপি ও নিয়মিত অনুশীলনে শিশুরা অনেক উন্নতি করে। বাবা-মায়ের ধৈর্য এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুল করলে বকাঝকা নয়, বরং খেলার ছলে শব্দ অনুশীলন করানো বেশি কার্যকর।
১. শিশুর সাথে ধৈর্য ধরুন – ভুল উচ্চারণ করলে বকাঝকা করবেন না। বরং সঠিকভাবে উচ্চারণ করে দেখিয়ে দিন।
২. খেলার মাধ্যমে শিখান – ছবি দেখিয়ে শব্দ বলানো, ছড়া শোনানো বা গান গাওয়ার সময় বারবার উচ্চারণ অনুশীলন করান।
৩. শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন – অনেক সময় আমরা ব্যস্ততার কারণে তাদের কথা এড়িয়ে যাই। শুনছেন সেটা বোঝালে তারা আরও উৎসাহিত হয়।
৪. গল্প পড়ে শোনান – প্রতিদিন বই বা ছবি দেখে গল্প বললে নতুন শব্দ শেখা ও সঠিক উচ্চারণে সাহায্য করে।
৫. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন – ৫–৬ বছর বয়সের পরও যদি সমস্যা থেকে যায়, তবে স্পিচ থেরাপিস্ট বা পেশাদারের কাছে নেওয়া জরুরি।
শিশুর উচ্চারণের ভুলকে “কিউট” বলে হেলাফেলা করা যাবে না। সময়মতো যত্ন নিলে সমস্যাটা কেটে যায়, আর শিশুটি আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
শেষকথা
রাফির মতো অনেক শিশু এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যায়। কিন্তু সময়মতো যত্ন নিলে তারা খুব সহজেই পরিষ্কারভাবে কথা বলতে শেখে। মনে রাখতে হবে—শিশুর স্পষ্ট উচ্চারণ শুধু ভাষার দক্ষতা নয়, আত্মবিশ্বাসেরও ভিত্তি।